মূল অংশে যান
Griho

বাড়ি ভাড়ার রসিদের ফরম্যাট (ফ্রি রসিদ তৈরির টুলসহ)

বাড়ি ভাড়ার রসিদে কী কী থাকা দরকার, বাংলা ও ইংরেজিতে নমুনা, আর একটা ফ্রি টুল যা এক মিনিটে পিডিএফ রসিদ বানিয়ে দেয়।

ceKapsys-এর Griho টিমপড়তে ৬ মিনিট

ভাড়ার রসিদ ছোট একটা কাগজ, কিন্তু কাজ করে অনেক। ভাড়াটিয়াকে জানায় টাকা পৌঁছেছে, আপনাকে জানায় টাকাটা কীসের জন্য, আর কয়েক মাস পরের কোনো মতবিরোধ এক বাক্যেই মিটিয়ে দেয়। তবু বাংলাদেশের অনেক বাড়িওয়ালা হয় রসিদ দেন না, নয়তো এত ছোট করে লেখেন যে তা দিয়ে খুব কমই প্রমাণ হয়।

এই গাইডে দেখানো হলো বাংলাদেশে বাড়ি ভাড়ার রসিদে কী কী থাকা দরকার, বাংলা আর ইংরেজিতে একটা নমুনা, আর একটা ফ্রি টুল, যা এক মিনিটে পিডিএফ রসিদ বানিয়ে দেয়।

রসিদ কেন জরুরি

ভাড়াটিয়ার জন্য রসিদ হলো টাকা দেওয়ার প্রমাণ। কোনো বিরোধ বিল্ডিং কমিটি বা আদালত পর্যন্ত গেলে, যে ভাড়াটিয়ার কাছে রসিদ আছে তাঁর অবস্থান শক্ত।

আপনার জন্য রসিদ হলো কত টাকা, কবে, কীভাবে আর কোন মাসের জন্য এল তার রেকর্ড। ভাড়াটিয়া যখন বলেন মার্চের ভাড়া দিয়েছেন, আপনার রসিদ বই (বা অ্যাপ) সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেয়। রসিদ থাকলে ট্যাক্স রিটার্নের জন্য বছরের আয় যোগ করাও সহজ।

দুজনের জন্যই রসিদ ঠিক করে দেয় পেমেন্টটা কীসের জন্য। ৫ অক্টোবরের ৳৩০,০০০ হতে পারে সেপ্টেম্বরের বকেয়া, অক্টোবরের ভাড়া, অথবা ভাড়া আর একটা বিল। রসিদে সেটা লেখা থাকে।

শহরের ভাড়া বাড়ি নিয়ে যে আইন, সেই বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী ভাড়া পেলে বাড়িওয়ালার রসিদ দেওয়ার কথা। কেউ কখনো খোঁজ না নিলেও, পরিষ্কার রসিদ দেওয়াটা স্রেফ ভালো অভ্যাস।

ভাড়ার রসিদে যা থাকা দরকার

একটা পূর্ণাঙ্গ ভাড়ার রসিদে নয়টা অংশ থাকে:

  1. রসিদ নম্বর। আলাদা আর ক্রমানুসারে, যেমন ২০২৬-০০৪২। এতে দুজনেই কোনো একটা পেমেন্টের কথা বিভ্রান্তি ছাড়া বলতে পারেন।
  2. টাকা পাওয়ার তারিখ। যেদিন টাকা এসেছে, সেদিন, রসিদ লেখার দিন আলাদা হলেও।
  3. বাড়িওয়ালার নাম। ভাড়া গ্রহণকারী হিসেবে আপনার নাম। চাইলে বিল্ডিং বা ঠিকানাও দিন।
  4. ভাড়াটিয়ার নাম। চুক্তিতে যেমন লেখা।
  5. ফ্ল্যাট। নাম আর বিল্ডিং, যেমন "৪বি, সপ্তক টাওয়ার, ধানমন্ডি"।
  6. কীসের জন্য। কোন মাস বা মাসগুলোর, যেমন "ভাড়া, সেপ্টেম্বর ২০২৬"। বিল থাকলে আলাদা লাইনে লিখুন।
  7. টাকার অঙ্ক। টাকায়, মোটটা স্পষ্ট করে চিহ্নিত। কথায়ও লিখে দিলে ("পঁচিশ হাজার টাকা মাত্র") কেউ অঙ্ক বদলাতে পারে না।
  8. কীভাবে দিয়েছেন। ক্যাশ, বিকাশ, নগদ, ব্যাংক ট্রান্সফার বা চেক, সঙ্গে ট্রানজেকশন আইডি বা চেক নম্বর।
  9. আর কিছু বাকি কি না। "পুরো পরিশোধিত", অথবা ওই মাসগুলোর কত বাকি রইল।

কাগজের রসিদে সই দেওয়ার রীতি আছে। নিজস্ব নম্বরসহ ডিজিটালভাবে পাঠানো রসিদে নম্বর আর তার পেছনের রেকর্ডই সেই কাজ করে।

ইংরেজিতে নমুনা

Rent receipt
Receipt no. 2026-0042 · Date: 5 September 2026

Received from: Tanvir Hossain
Flat: 4B, Shaptak Tower, Dhanmondi

ForAmount
Rent, August 2026 (balance)৳10,000
Rent, September 2026৳25,000
Electricity bill, August 2026৳1,850
Total received৳36,850

Paid by: bKash · Transaction ID: TRX8J2K91
Status: Paid in full

Received by: Farhana Rahman

বাংলায় নমুনা

ভাড়ার রসিদ
রসিদ নং ২০২৬-০০৪২ · তারিখ: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যাঁর কাছ থেকে: তানভীর হোসেন
ফ্ল্যাট: ৪বি, সপ্তক টাওয়ার, ধানমন্ডি

বিবরণটাকা
ভাড়া, আগস্ট ২০২৬ (বাকি অংশ)৳১০,০০০
ভাড়া, সেপ্টেম্বর ২০২৬৳২৫,০০০
বিদ্যুৎ বিল, আগস্ট ২০২৬৳১,৮৫০
মোট পেয়েছি৳৩৬,৮৫০

পরিশোধ: বিকাশ · ট্রানজেকশন আইডি: TRX8J2K91
অবস্থা: পুরো পরিশোধিত

গ্রহণকারী: ফারহানা রহমান

খেয়াল করুন রসিদটা কোথায় ভালো কাজ করছে। আগস্টের বাকি আর সেপ্টেম্বরের ভাড়া আলাদা লাইনে, তাই পরে কেউ ভাববেন না আগস্ট শোধ হয়েছিল কি না। বিলটা নিজের লাইনে, তাই পরিষ্কার যে ওটা ভাড়া না। বিকাশের ট্রানজেকশন আইডি থাকায় দুই পক্ষই সেকেন্ডের মধ্যে পেমেন্টটা খুঁজে পান।

ভাড়াটিয়া বাংলায় পড়তে বেশি স্বচ্ছন্দ হলে রসিদ বাংলাতেই দিন। বাংলা অঙ্ক (২৫,০০০) একদম ঠিক আছে, শুধু সব জায়গায় একইরকম রাখুন।

সাধারণ ভুলগুলো

  • রসিদে মাস লেখা নেই। মাস ছাড়া "৳২৫,০০০ পেয়েছি" সবচেয়ে সাধারণ ফাঁক, আর সবচেয়ে বেশি তর্কের কারণ।
  • ভাড়া আর বকেয়া আলাদা না করে একটা রসিদ। প্রতিটি মাস সবসময় আলাদা লাইনে দেখান।
  • ক্যাশের রসিদ না দেওয়া। ক্যাশের কোনো চিহ্ন থাকে না, তাই অন্য যেকোনো পদ্ধতির চেয়ে এখানে রসিদ বেশি দরকার।
  • নম্বর আবার ব্যবহার করা বা বাদ দেওয়া। নম্বর চলবে ক্রমানুসারে, ফাঁক ছাড়া। কোনো রসিদ বাতিল করলে সেটা রেখে দিন, বাতিল লিখুন। তার নম্বর আবার ব্যবহার করবেন না।
  • অঙ্ক গোল করা। ৳২৪,৫০০ এলে রসিদে ৳২৪,৫০০ লিখুন, আর ৳৫০০ বাকি দেখান।
  • অ্যাডভান্স ভাড়ার সঙ্গে মেশানো। ওঠার সময় দেওয়া অ্যাডভান্সের রসিদ আলাদা, স্পষ্ট করে "অ্যাডভান্স" লেখা, "ভাড়া" না।

অ্যাডভান্স, বিল আর ফেরতের রসিদ

শুধু ভাড়ার জন্য না, আরও তিনটা সময়ে রসিদ দেওয়া উচিত:

  • ওঠার সময় অ্যাডভান্স। "অ্যাডভান্স" লিখে অঙ্ক, তারিখ, আর চুক্তি অনুযায়ী এটা কী কাজে লাগবে, সেটা দিন। বছর কয়েক পরে বাসা ছাড়ার সময় দুজনেই এই রসিদটা খুঁজবেন।
  • ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে নেওয়া বিল। আপনার দেওয়া গ্যাস বা বিদ্যুৎ বিলের টাকা নিলে ভাড়ার রসিদেই আলাদা লাইনে লিখুন, বিলের মাসসহ। ভাড়ার অঙ্কের সঙ্গে মিশিয়ে দেবেন না।
  • বাসা ছাড়ার দিনের ফেরত। অ্যাডভান্সের বাকি টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ছোট একটা হিসাব লিখুন: অগ্রিম জমা, কী কাটা হলো আর কেন, আর কত ফেরত দিলেন। দুজনেই সই করুন।

রসিদ কতদিন রাখবেন

ভাড়াটিয়া যতদিন থাকেন ততদিন তো বটেই, চলে যাওয়ার পরেও কয়েক বছর নিজের কপি রেখে দিন। ভাড়ার আয় নিয়ে কর বিভাগের প্রশ্ন এক বছরের বেশি পেছনে যেতে পারে, আর অ্যাডভান্স নিয়ে বিরোধ কখনো কখনো বাসা ছাড়ার অনেক পরে ওঠে। ছবি, পিডিএফ বা অ্যাপের রেকর্ড, যেকোনো ডিজিটাল কপি আলমারির কার্বন বইয়ের চেয়ে রাখা আর খুঁজে পাওয়া অনেক সহজ।

কাগজ, টেমপ্লেট, নাকি টুল

দোকানের রসিদ বই কার্বন কপিসহ চলে। তবে হারিয়ে যায় সহজে, আর পরে খুঁজে পাওয়া কঠিন।

ওয়ার্ড প্রসেসরের টেমপ্লেট দেখতে গোছানো, কিন্তু প্রতিটির নম্বর দেওয়া, সেভ করা আর পাঠানো আপনাকেই করতে হয়।

রসিদ তৈরির টুল ফরম্যাটের কাজটা করে দেয়। Griho-র ফ্রি ভাড়ার রসিদ তৈরির টুল ছোট একটা ফর্ম থেকে বাংলা বা ইংরেজিতে পিডিএফ বানায়: আপনার নাম, ভাড়াটিয়া, ফ্ল্যাট, মাস, টাকা, পদ্ধতি আর রেফারেন্স, তারিখ আর রসিদ নম্বর। সাইন আপ লাগে না, আর আপনি যা লেখেন তা রাখা হয় না। ডাউনলোড করে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠান বা প্রিন্ট করুন।

যখন প্রতি মাসেই রসিদ বানাতে হয়

একাধিক ফ্ল্যাট থাকলে, কিংবা চাইলে যে রসিদ নিয়ে আর ভাবতে হবে না, তখন ভাড়ার অ্যাপই স্বাভাবিক পরের ধাপ। Griho-তে টাকা পেয়েছি চাপলে ওপরের সবকিছু নিজে থেকেই হয়:

  • ক্রমানুসারে আলাদা রসিদ নম্বর, ফাঁক বা পুনরাবৃত্তি ছাড়া
  • কোন মাস শোধ হলো আর কত বাকি, হিসাব করা
  • যে বিল নিচ্ছেন, সেগুলো আলাদা লাইনে
  • পদ্ধতি আর রেফারেন্স লেখা
  • ভাড়াটিয়ার নিজের ভাষায় পিডিএফ
  • সরাসরি ভাড়াটিয়ার হোয়াটসঅ্যাপে বা ইমেইলে, অনলাইনে দেখার লিংকসহ

প্রতিটি রসিদ রাখা থাকে, তাই যেকোনো পেমেন্ট পরে সেকেন্ডের মধ্যে খুঁজে পান। কীভাবে কাজ করে, দেখুন হোয়াটসঅ্যাপে ভাড়ার রসিদ ও রিমাইন্ডার পেজে।

প্রতিটি রসিদের ছোট চেকলিস্ট

  • রসিদ নম্বর, আলাদা আর ক্রমানুসারে
  • টাকা পাওয়ার তারিখ
  • আপনার নাম, ভাড়াটিয়ার নাম আর ফ্ল্যাট
  • মাস বা মাসগুলো, প্রতিটি আলাদা লাইনে
  • বিল বা চার্জ আলাদা লাইনে
  • টাকার অঙ্ক, মোট চিহ্নিত, আর কাগজে হলে কথায়ও
  • পদ্ধতি আর ট্রানজেকশন আইডি বা চেক নম্বর
  • "পুরো পরিশোধিত", নয়তো কত বাকি
  • একটা কপি আপনার কাছে

ক্যাশ আর আংশিক পেমেন্টসহ প্রতিটি পেমেন্টের রসিদ দিন। এক মিনিট লাগে, আর বাঁচায় অনেক ঘণ্টা।

ফিচারহোয়াটসঅ্যাপে ভাড়ার রসিদ ও রিমাইন্ডারভাড়া লিখলেই নম্বরসহ রসিদ চলে যায়। রিমাইন্ডার যায় সময়মতো।

এই মাসের ভাড়ার হিসাব রাখুন Griho-তে

প্রথম ফ্ল্যাট ফ্রি। হোয়াটসঅ্যাপে রসিদ, সময়মতো রিমাইন্ডার, আর যোগ-বিয়োগ নিজে থেকেই হয়।

ফ্রিতে শুরু করুন

আরও গাইড