অফলাইনেও চলে, অ্যাপের মতো ইনস্টল হয়
নেট না থাকলেও ভাড়া লিখুন। নেট এলে নিজে থেকেই সিঙ্ক হয়।
ভাড়ার টাকা হাতবদল হয় এমন সব জায়গায়, যেখানে নেট ঠিকমতো থাকে না: গেটে, সিঁড়িতে, বেসমেন্টের গাড়ি রাখার জায়গায়, কিংবা গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে। যে অ্যাপে পেমেন্ট লিখতে নেট লাগে, সেটা ঠিক তখনই কাজ করে না যখন দরকার। Griho বানানো হয়েছে মাঝারি দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে, দুর্বল ৪জি-তে চলার জন্য, আর নেট চলে গেলেও চালু থাকার জন্য।
ব্রাউজার থেকেই ইনস্টল
Griho এমন একটা ওয়েব অ্যাপ, যা ফোনে ইনস্টল করা যায়। অ্যাপ স্টোরে খুঁজতে হয় না, বড় কোনো ডাউনলোডও নেই।
অ্যান্ড্রয়েডে ক্রোমে griho.online খুলে সাইন ইন করুন। দ্বিতীয়বার আসার পর, কিংবা প্রথম ভাড়া লেখার পর, Griho ইনস্টল করার প্রস্তাব দেবে। চাপলেই হোম স্ক্রিনে Griho-র নিজের আইকন চলে আসে। অন্য যেকোনো অ্যাপের মতো পুরো স্ক্রিনে খোলে, ব্রাউজারের ঠিকানার ঘর ছাড়াই।
আইফোনে ইনস্টলের কাজটা করে সাফারি। Griho তিনটা ধাপ দেখিয়ে দেয়: শেয়ার বাটনে চাপুন, "Add to Home Screen" বাছুন, তারপর "Add" চাপুন।
কম্পিউটারে যেকোনো আধুনিক ব্রাউজারে চলে, চওড়া লেআউটে তালিকা আর তার বিস্তারিত পাশাপাশি দেখা যায়।
ইনস্টল করুন বা না করুন, সব ডিভাইসে একই অ্যাকাউন্ট, একই হিসাব।
নেট ছাড়াই ভাড়া লিখুন
ফোনে Griho থাকলে টাকা পেয়েছি অফলাইনেও কাজ করে। চাপুন, ভাড়াটিয়া কীভাবে দিলেন বাছুন, তারপর যথারীতি সেভ করুন। Griho তখন:
- পেমেন্টটা ফোনেই নিরাপদে রেখে দেয়
- ভাড়ার সারিতে সিঙ্ক বাকি লিখে বোতামগুলো সরিয়ে রাখে, যাতে ভুল করে দুবার লেখা না হয়
- নেট ফিরলে, অ্যাপ আবার খুললে, কিংবা ফোন অ্যাপটা সামনে আনলেই সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়
- অ্যান্ড্রয়েডে অ্যাপ বন্ধ করে দিলেও পেছনে পেছনে সিঙ্ক শেষ করে
সেভ চাপার মুহূর্ত থেকেই প্রতিটি পেমেন্টের নিজস্ব একটা আইডি থাকে। দুর্বল নেটে ফোন যদি একই পেমেন্ট দুবার পাঠায়, সার্ভার চিনে ফেলে আর একটাই রাখে। এক পেমেন্টের জন্য কখনো দুটো রসিদ হয় না।
দুজন একই ভাড়া লিখলে
ধরুন আপনি অফলাইনে একটা পেমেন্ট লিখলেন, আর একই সময়ে আপনার সহ-মালিক নিজের ফোন থেকে একই মাসের ভাড়া লিখলেন। যেটা আগে সার্ভারে পৌঁছায়, সেটাই থাকে। অন্যটা সিঙ্ক হলে Griho সোজাসুজি জানিয়ে দেয় যে ভাড়াটা আগেই লেখা হয়েছে, আর আগের রেকর্ডটাই রাখা হয়েছে। কিছুই দুবার যোগ হয় না, কিছুই চুপচাপ বদলেও যায় না।
খোলা পেজগুলো হাতের কাছে থাকে
অ্যাপের স্ক্রিনগুলো, আর সম্প্রতি যে পেজগুলো দেখেছেন, সেগুলো ফোনেই থাকে। কোনো ফ্ল্যাট দেখার সময় নেট চলে গেলেও পড়তে পারবেন। Griho আগে দেখেনি এমন কিছু খুললে পরিষ্কার একটা "আপনি অফলাইনে আছেন" পেজ আসে, আর নেট ফিরলে নিজে থেকেই আবার যুক্ত হয়।
অ্যালার্ট, শুধু আপনি চাইলে
কোনো ভাড়াটিয়ার ভাড়া বকেয়া হলে, আর কোনো লিজ শেষ হওয়ার ৩০ দিন ও ৭ দিন আগে, Griho আপনাকে জানাতে পারে। এগুলো অন্য অ্যাপের মতোই ফোনের নোটিফিকেশন। প্রথমবার খোলার সময় Griho কখনো অনুমতি চায় না। আপনি নিজে আরও → ভাড়ার অ্যালার্ট থেকে চালু করেন, বন্ধও করেন সেখান থেকেই।
বাংলা বা ইংরেজি, অঙ্ক যেভাবে চান
প্রতিটি স্ক্রিন বাংলা আর ইংরেজি দুই ভাষাতেই। মেনু থেকে যেকোনো সময় ভাষা বদলান, অ্যাপ মনে রাখবে। সংখ্যা কীভাবে লেখা হবে, সেটাও বেছে নিতে পারেন: বাংলা অঙ্কে (২৫,০০০), ইংরেজি অঙ্কে (25,000), নাকি ভাষা অনুযায়ী। টাকার অঙ্ক সবসময় লাখের হিসাবে ভাগ করা: ৳১,২৫,০০০, ৳১২৫,০০০ না।
আপনি যে ভাষাতেই অ্যাপ চালান, রসিদ আর রিমাইন্ডার প্রতিটি ভাড়াটিয়ার কাছে যায় তাঁর নিজের ভাষায়। দেখুন হোয়াটসঅ্যাপে ভাড়ার রসিদ ও রিমাইন্ডার।
ফোন আর ডেটা, দুটোরই খেয়াল রাখে
বেশিরভাগ বাড়িওয়ালা যে ফোন ব্যবহার করেন, Griho সেটার কথা ভেবেই বানানো:
- পেজগুলো ছোট, ৪জি-তে তাড়াতাড়ি খোলে। ইনস্টল করার পর বেশি ব্যবহৃত স্ক্রিনগুলো সঙ্গে সঙ্গে আসে।
- রসিদ আর ফ্ল্যাটের ছবি আপলোডের আগে ফোনেই ছোট করা হয়, প্রতিটি কয়েকশো কিলোবাইটে।
- লেখা অন্তত ১৬ পিক্সেল, বোতাম বুড়ো আঙুলে চাপার মতো বড়, আর মূল কাজের বোতাম থাকে আঙুলের নাগালেই।
- ডার্ক মোড চলে ফোনের সেটিং অনুযায়ী।
শেয়ার করা ফোনেও গোপনীয়
নিজের ফোনে সাইন ইন করা থাকে, তাই দুই ট্যাপেই ভাড়া লেখা যায়। অন্যের সঙ্গে ভাগ করা ফোন হলে কাজ শেষে আরও থেকে সাইন আউট করে নিন। ভাড়াটিয়ার এনআইডি নম্বর স্ক্রিনে লুকানো থাকে, আপনি দেখতে না চাওয়া পর্যন্ত, আর প্রতিবার দেখার রেকর্ড থাকে।
কোথা থেকে শুরু
অফলাইনে ভাড়া লেখা ভাড়ার হিসাবেরই অংশ, তাই ফ্রিসহ সব প্ল্যানে আছে। একটা ফ্ল্যাট দিয়ে শুরু করুন, দেখুন মাসটা কেমন যায়। ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিস্তারিত আছে প্রতিটি ফ্ল্যাটের ভাড়ার হিসাব পেজে, আর প্ল্যানগুলো দাম পেজে।